অস্তিত্বহীন ৭৪ শিশুর ভুয়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
যোগফল প্রতিবেদক:
লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অস্তিত্বহীন ৭৪ শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত্যু দেখিয়ে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নিবন্ধন সহকারী) আবুল বাছেরের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিডিআরআইএস সিস্টেমে চররমনী মোহন ইউনিয়নে ৭৪টি অস্তিত্বহীন শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়েছে। এসব নিবন্ধন করেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নিবন্ধন সহকারী) আবুল বাছের।
গত ৯ সেপ্টেম্বর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ডেপুটি জেনারেল (যুগ্মসচিব) মো. লুৎফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বাছেরের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) সচিব, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সাতটি দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে চিঠিটি প্রতিবেদকের হাতে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ আগস্ট জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন আবুল বাছের। সেখানে তিনি স্বীকার করেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বিডিআরআইএস সিস্টেমে ৭৪টি অস্তিত্বহীন শিশুকে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত দেখিয়ে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আবুল বাছের বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অতিরিক্ত চাপে ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে ৭৪টি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করেছি। উক্ত নিবন্ধনগুলো সঠিক নয়। তাই উক্ত নিবন্ধনগুলো বাতিল করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে বাছেরের নিবন্ধন সহকারীর ক্ষমতা প্রত্যাহার করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ১(গ) এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮-এর ১৯(৪) বিধি অনুযায়ী অন্য ব্যক্তিকে নিবন্ধন সহকারীর দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ভুয়া নিবন্ধনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষিত বিডিআরআইএস সিস্টেমের তথ্যের শুদ্ধতা নষ্ট করার অভিযোগে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ২১(১) ও ২১(৩) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসদাচরণের জন্য আবুল বাছেরের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর ৩৪ বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শুভ্রজিত রায় বলেন, ‘বাছের চররমনী মোহন ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। এখন তিনি টুমচর ইউনিয়নে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি।’
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, অভিযোগটি নিয়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে বাছেরের লিখিত জবাব দেওয়ার কথা ছিল। তিনি জবাব দিয়েছেন কি না, তা এখনো তাদের জানা নেই। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে তাদের কাছে কোনো চিঠি আসেনি। চিঠি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম




আপনার মতামত লিখুন